ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ , ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিমানের দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত উন্মুক্ত হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, কর্মী নিয়োগের ঘোষণা পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ই-পার্লামেন্ট বিষয়ক প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ সদস্যের কমিটি কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি বিমানবন্দর-কমলাপুর মেট্রোরেলের প্যাকেজ-৩-এর ইউটিলিটি স্থানান্তর শুরু এ মাসেই স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী উত্তরায় ফের পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশের জন্য কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কোনো বিশেষ কিছু করার পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাজীপুরে ওষুধ কারাখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ছে, আরও সহায়তা আসা উচিত: অর্থমন্ত্রী দুর্গাপূজায় ৫ ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১২ ইউনিট ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৫৪ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো কলঙ্ক নিতে চায় না সরকার: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সাথে একমত বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার ড. ইউনূস

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে কাতর পুরো জাতি

  • আপলোড সময় : ৩১-১২-২০২৫ ০৮:১৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩১-১২-২০২৫ ০৮:১৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে কাতর পুরো জাতি
মঙ্গলবার সকাল ৬টা। সূর্যের আলো ফোটার আগেই দেশের আকাশটা হঠাৎই যেন অস্বাভাবিকভাবে ভারি হয়ে ওঠে। ঘনকুয়াশা আর হিম বাতাসেও এক ধরনের স্তব্ধতা, অজানা শূন্যতার হাহাকারে ভরা। ঠিক সেই সময়ে পৃথিবীকে বিদায় জানালেন খালেদা জিয়া। এ খবর বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। মুহূর্তেই শোকে স্তব্ধ পুরো দেশ। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবার চোখ অশ্রুতে সিক্ত। সব ধর্ম, দল-মত নির্বিশেষে বাদ যাননি কেউ। বুক চাপরে কাঁদছেন নেতাকর্মীরা। কাঁদছে দেশ। এতদিন যার কণ্ঠে ছিল ঐক্য ও গণতন্ত্রের বাণী, যার নেতৃত্বে স্বপ্ন দেখতে শিখেছি, তিনি আজ নেই-এই সত্যটা মেনে নেওয়া যেন অসম্ভব। তাই তো বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের পথে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। তাদের কান্নার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল এলাকা। কেউবা নীরবে অশ্রুসিক্ত, আবার কেউবা স্মৃতিচারণ করেছেন। মঙ্গলবার দিনভর এমনই দৃশ্যই চোখে পড়ে।

এছাড়াও বিএনপির নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়েও নেতাকর্মীদের কান্নার রোল পড়ে। অনেককেই বিলাপ করতে করতে মূর্ছা যেতেও দেখা যায়। সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতেও নেতাকর্মীরা শোকে হয়েছে মুহ্যমান।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর শুনে এদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা এভারকেয়ারে ছুটে আসেন এক পলক দেখতে। নেতাকর্মী, সমর্থক, সাধারণ মানুষ-সব মিলিয়ে হাসপাতালের প্রধান ফটক পরিণত হয় শোক, নীরবতা ও আবেগের এক প্রান্তরে। এদিকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। ৭ দিনের শোক কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে ভাসছে নেট দুনিয়া।

সরেজমিন দেখা যায়, বিএনপির শীর্ষ নেতারা এভারকেয়ার হাসপাতালে অবস্থান করছেন। বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যারিকেড। প্রধান ফটকে হাজারো মানুষের অপেক্ষা। তাদের সবার চোখে পানি। তাদের কেউ কেউ নেত্রীকে একপলক দেখতে তীব্র শীত উপেক্ষা করে শত শত মাইল দূর থেকে এসেছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। তাদের অনেক নেতাকর্মী একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন।

নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এদিন এভারকেয়ারের পথে যেসব মানুষের ঢল নেমেছে, তাদের অনেকেই সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। কেউ এসেছেন দীর্ঘদিনের পরিচিত এক রাজনৈতিক চরিত্রের প্রস্থান দেখতে, কেউ এসেছেন কেবল শোক প্রকাশ করতে। তাদের অনেকেই বলছিলেন, ‘খালেদা জিয়াকে টিভি, পত্রিকায় দেখে বড় হয়েছি, তিনি আর নেই, এটা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হচ্ছিল না।’

সকাল সোয়া দশটা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যারিকেডের পাশেই অঝোরে কান্না করছিলেন আলেয়া বেগম নামের ৬০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধা। সকালে টেলিভিশনে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর পান তিনি। নিজেকে ঠিক রাখতে পারেননি। এজন্য ১৩ বছর বয়সি নাতিকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে এভারকেয়ারের সামনে আসেন তিনি। হাসপাতালে প্রবেশ করতেও চেয়েছেন-তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঢুকতে দেয়নি। পরে পাশেই বসে অঝোরে কান্না করছেন আর বারবার আল্লাহর দরবারে হাত তুলে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করছেন। চোখ মুছে আলেয়া বেগম বলেন, খালেদা জিয়াকে মায়ের মতোই ভালোবাসি। বিভিন্ন কারণে কয়েকবার তার সঙ্গে দেখা হয়েছে। তাই খবর পেয়ে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে আসছি।

ভোরে ফজরের নামাজ শেষে বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে বের হয়েছিলেন বগুড়ার সোনাতলার ৬৫ বছর বয়সি আনোয়ার হোসেন। মোবাইলে ফেসবুক চালু করতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর। পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে বাসে করে ঢাকায় আসেন। তিনি বলেন, এটা দেখে মনকে বুঝাতে পারিনি। তাই দ্রুত চলে এসেছি।

শুধু আলেয়া ও আনোয়ার হোসেনই নন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এদিন এভারকেয়ার হাসপাতালের পথে ঢল নামে।

সারাদিনই হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন নেতাকর্মীরা। তাদের অনেকেই দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে কান্না করতে করতে ফিরে যান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া। তার বক্তব্য শোনার জন্য কর্মসূচিতে আসতাম। তাকে দেখার জন্য আসতাম। আজও তার মৃত্যুর খবরে তাকে দেখার জন্য আসছি। কিন্তু আর তো দেখা হবে না প্রিয় নেত্রীকে। আর তো তার ডাকে আসা হবে না কর্মসূচিতে। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন।

নেতাকর্মীরা বলছেন, আজ তাদের চোখে ঘুম নেই, আছে শুধু অশ্রু আর স্মৃতির ভিড়। কেউ হারিয়েছে একজন পথপ্রদর্শককে, কেউ একজন অভিভাবককে, কেউবা একজন নির্ভরতার শেষ আশ্রয়কে। তার একটি কথা, একটি হাসি, একটি দৃঢ় উপস্থিতি আজ বারবার মনে পড়ে বুকটা ভারী করে দিচ্ছে তাদের। মনে হয়, তিনি আছেন এই তো পাশেই, ডাক দিলেই সাড়া দেবেন। কিন্তু বাস্তবতা নির্মম, নীরব হলেও কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন খালেদা জিয়া।

এদিকে এভারকেয়ারের উদ্দেশে আসা সড়কের উভয় পাশে নেতাকর্মীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও দলের স্বেচ্ছাসেবকরা।

 

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
 আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে: মানসুরা

 আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে: মানসুরা